শিরোনাম
নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াত থেকে বহিষ্কার হলেন সাতক্ষীরার সেই এমপি আশুগঞ্জে খাল পুনঃখনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত কসবায় বিজিবির অভিযানে ৬৫টি কচ্ছপ উদ্ধার স্পেনের জয়ে সেজদা দেওয়ায় প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের অভিযোগ বিজয়নগরে হাঁসের বাচ্চা ফেরত দেওয়া নিয়ে পিটুনিতে নিহত ১ নদী-খাল-বিলে মাছ বাঁচাতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত থেকে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য উদ্ধার আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ‘বর্ষায় নজরুল’ অনুষ্ঠিত জিহাদ হত্যার বিচার দাবিতে সরাইলে মানববন্ধন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 8:14 pm

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ফিরলে তার প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি ও দলের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতারা ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন৷
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ভারত থেকে দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান৷
গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সি হাসিনা বলেন ‘‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি আমাকে হত্যাও করতে পারে৷”
‘‘তবুও আমাকে যেতেই হবে৷ আমার দলের নেতা-কর্মীরা চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন৷ মৃত্যু যদি আসে, আমি চাই তা যেন আমার নিজের মাটিতেই আসে, যেখানে আমার বাবা-মায়ের রক্ত ​​ঝরেছিল, যেখানে তাদের সমাহিত করা হয়েছে৷”
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা৷ গণ-অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে দেশটির যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়৷ তবে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা৷

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরো বাড়াতে পারে৷ অন্যদিকে এর ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন চলছে তাতে উন্নতি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷
ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে – এমন পর্যবেক্ষণও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে৷
ভারতে যাওয়ার পর থেকে কিছু সংবাদমাধ্যমকে লিখিত প্রশ্নের জবাব দিলেও এতদিন সরাসরি কোনো সাক্ষাৎকার দেননি শেখ হাসিনা৷ রয়টার্সকে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার সময়সীমা উল্লেখ করার পাশাপাশি এ-ও জানালেন যে, দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন৷

শেখ হাসিনা বলেন ঢাকার কর্তৃপক্ষ ‘‘আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়৷ আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে তারা বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে৷” তবে তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজেই ফিরে যাবো৷”
শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে রয়টার্স জানিয়েছে, মুখপাত্ররা তাতে সাড়া দেননি৷ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি৷
রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ তাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন৷ তাই (নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের) আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি এবং একদিন আপনাদেরও ফিরে আসা উচিত৷ আমরা সবাই মিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করবো৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী৷ আমার ধারণা, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনমূলক, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে৷ আমি সেটাই প্রমাণ করতে চাই৷”
‘জনগণই সিদ্ধান্ত নিক’
গণমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগেরঅনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন৷
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি৷ তিনি বলেন, কারাবরণের বিষয়ে তিনি চিন্তিত নন, কারণ অতীতেও তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷
রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল মূলত প্রাণনাশের হুমকির কারণে৷ নিজের শাসনামল সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকলে ভুল-ত্রুটি হতেই পারে৷ কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়৷ তবে সরকারের ভালো-মন্দ বা ঠিক-ভুল বিচারের অধিকার জনগণের৷ সেই বিচারের ভার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম৷”
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইতিমধ্যে অনলাইনে বৈঠক করেছেন৷ নিজের দল আওয়ামী লীগ এবং নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তারা হয়ত আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবো না৷ কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, জনগণই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক৷

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Facebook Comments Box

Posted ৮:১৩ পিএম | শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

The Daily Sarod |